এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Issues) এই পশ্চিমবঙ্গে

Jan 17, 2026 - By Ashutosh Roy Current AffairsPolitics

SIR Issues

এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Issues) বাড়ছে কেন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Issues) ক্রমশ বাড়ছে। হ্যাঁ, নিশ্চয় এটার শুরু রাজনৌতিক মঞ্চ থেকে। কিন্তু বর্তমানে এটা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বেশ কিছু গুরুতর ব্যর্থতার দিকে আঙ্গুল উঠতেও বাধ্য।

আসলে বিহার এসআইআর সম্পন্ন হবার পর নির্বাচন কমিশন বোধ হয় খানিকটা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। সেটাই বাংলার ক্ষেত্রে তাদের কাছে বুমেরাং হয়ে ফিরছে।

ক্ষমতা ও দায়িত্বশীলতা

সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে অগাধ ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু যে কোন ক্ষমতায় অন্তর্নিহিত থাকে এক দায়িত্ব সচেতনতার পরীক্ষা। আজ নির্বাচন কমিশন কি সেই দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে সমভাবে সচেষ্ট? বরং তাদের যোগ্যতা নিয়ে অনাকাঙ্খিত প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

যে কোন এই ধরণের বৃহত্তর প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য একটা নির্ধারিত কার্যপ্রণালি (SOP) তৈরী হয়। সেটার দায়িত্ব ন্যস্ত্য থাকে যারা সেই প্রকল্প রূপায়ণ করবেন তাদের মাথাদের বা কোন বিশেষজ্ঞ কমিটির ওপর।

এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Issues) ও পদ্ধতিগত ত্রুটি

যারা আইএসও কাজ কর্মের সঙ্গে যুক্ত, তারা জানেন পদ্ধতি (Process) কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এবং এই পদ্ধতি ঠিক মতো পালন না করলেই অডিটে নন-কনফামেন্স (NC ) আসতে পারে। আসল কথাটা হল একটা প্রণালীকে ঠিক মতো বোঝা এবং সেটাকে বাস্তবায়িত করার জন্য কতগুলো ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করা।

প্রত্যেকটার একটা করে ইনপুট এবং আউটপুট ক্রাইটেরিয়া (Input Criteria and Output Criteria) নির্ধারণ করতে হয়। যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় কোন গন্ডগোল হলে চটজলদি একটা অংশকে চিহ্নিত করা যায় এবং সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

টেস্টিং বলে একটা ব্যাপার থাকে। সেই উপ-প্রক্রিয়াসমূহ ঠিকমতো নির্ধারণ করা হয়েছিল? সেই পদ্ধতিকে ঠিক মতো সফটওয়্যার পরীক্ষা (Software testing ), মান যাচাই (Quality testing ) ও ব্যবহারকারী পরীক্ষার (User testing ) মাধ্যমে নিরীক্ষণ করা হয়েছিল? ডেটা/কাজ প্রবাহ সক্ষমতা পরীক্ষা (Throughput Testing) হয়েছিল? বোধ হয় না।

তাহলে আজকের এই এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Issues) বোধ হয় আমাদের বঙ্গবাসীকে তারা করে বেড়াতো না।

বুথ লেভেল অফিসারদের চূড়ান্ত হয়রানি

আজ আমরা কি দেখছি? মাঝে মাঝেই ওই বুথ লেভেল অফিসারদের কাছে হোয়াটসাপে নতুন নতুন নির্দেশ আসছে। যদি একটা ঠিকঠাক SOP থাকতো, তাহলে কি এই দুর্ভোগ হতো? আমরা জানি ভারতে এই স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন এই প্রথমবার। অতএব এটা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত হবে সেটা আমরাও আশা করি না।

কিন্তু তা সত্ত্বেও এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সফটওয়ারের এবং পদ্ধতির গুণগত মান সম্মন্ধে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Issues): বিহার বনাম বাংলা

প্রথমদিকে নির্বাচন কমিশন বুঝতেই পারে নি, যে বিহার থেকে গঙ্গা বাংলায় বইতে পারে, কিন্তু রাজমহল পাহাড়ের ওপারের আর এপারের রাজনীতিতে গুনগত তফাৎ জাজ্জ্বল্যমান।

জানি না, তারা প্রথম দিকেই কেন পশ্চিমবঙ্গে কাজ করে যাওয়া আমলাদের কেন এই কমিটিতে নিয়োগ করেন নি। এখানে যখন স্পেশাল অবজার্ভার পাঠানো হল, সেটা অনেক দেরি হয়ে গেল। তবু সুব্রত গুপ্ত যেহেতু এই বাংলাতেই দীর্ঘদিন কাজ করে গেছেন, তিনি হয়তো কিছুটা উদ্ধার করার চেষ্টা করলেন।

নইলে ওই ৫৮ লক্ষ নাম কিছুতেই বাদ যেত না। এরপর যখন মুরুগান আক্রান্ত হলেন বা কলকাতার সিইও অফিস ঘিরে তান্ডব চলতে থাকল, তখন জ্ঞানেশ কুমার শুধু নির্দেশ দিয়েই খালাস।

হঠাৎ তার দিবানিদ্রা ভাঙতে তিনি আবিষ্কার করলেন, যে কবে কয়েকজন অফিসারদের বিরুদ্ধে সাসপেনশন এবং এফআইআর করতে বলেছিলেন, কিন্তু এতদিনেও এফআইআর হয় নি। ব্যাস সঙ্গে সঙ্গে অর্ডার।

এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Issues): অহেতুক মানুষকে ভেরিফিকেশনে ডাকা

কিন্তু আজকের যে প্রায় ৫০-৬০ লক্ষ লোকের নামের সাথে ২০০২ সালের তালিকায় বাবা বা মায়ের নামের অমিল। এটাতো বুথ লেভেল অফিসাররা (BLOs) বাড়িতে গিয়েই মিলিয়ে নিতে বা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে পারতেন, এত মানুষকে অহেতুক ডেকে এনে কি লাভ?

তবে দুচারজন প্রত্যক্ষভাবে এই ভেরিফিকেশনে যাওয়া লোকজনের মুখে শুনেছি যে ওখানে কোন সমস্যা হয় নি। বসার জায়গা ছিল। এবং আসল কাজটা সম্পন্ন করতে ২ মিনিটও লাগে নি। কিন্তু টিভিতে দেখেছি বয়স্কদের কি দুরবস্থা।

এর পরেও আছে যেখানে বাবার সন্তানের বয়সের তফাৎ মাত্র ১৫ বছর। আবার কোথাও ৫০ বছরেও মানুষ বাবা হচ্ছেন। কেউ আবার ৪০ বছরে দাদু হচ্ছেন। কারও আবার সন্তানের সংখ্যা ছয়ের বেশী।

এগুলো নিশ্চয় দেখা উচিৎ।

তবে কিছু তুঘলকি আদেশ দিয়ে ইলেকশন কমিশন কি নিজেদের হটকারিতা প্রকাশ করছে না?

হঠাৎ মাধ্যমিকের এডমিট কার্ড আর ভ্যালিড ডকুমেন্ট নয়? তাও জানাচ্ছে এই ১৬ই জানুয়ারী।

এই সার্টিফিকেট দিয়েতো সর্বত্র এতদিন কাজ চলেছে। যোগেন্দ্র যাদব বা অন্য কেউ কি এই ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছেন?

মাধ্যমিকের এডমিট কার্ড আর ভ্যালিড ডকুমেন্ট নয়

News Courtesy: The Telegraph Online Dated: 16th January, 2026

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা

তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাধাদানের চেষ্টায় নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। শুরু হবার আগে থেকেই এসআইআর পশ্চিমবঙ্গে হতে দেব না বলে হুঙ্কার স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, লক্ষ লোক নিয়ে দিল্লির নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও হবে।

তার পর ছিল তাদের ওই বুথ লেভেল অফিসারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার অপচেষ্টা। খেলাটা ঘুরে যায় ওই স্পেশাল অবজার্ভার এবং মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করার পরেই। বারংবার পথে নেবে বিক্ষোভ দেখান মমতা অভিষেক সমেত গোটা তৃণমূল কংগ্রেস।

এমনকি ওই বিএলও অধিকার মঞ্চ নামে একটা সংগঠন করে তারা ইলেকশন কমিশনের কলকাতা অফিসার সিইও অফিসে নাগাড়ে বিক্ষোভ দেখান।

এখনও এই দুচারজন ভোটার নিয়ে অভিষেক মঞ্চ গরম করছেন। তাদের নাম নাকি মৃত হিসেবে দেখান হয়েছে। তবু এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Ordeal) চলছেই। তবে এর জন্য ইলেকশন কমিশন এবং তাদের সফটওয়ারে গন্ডগোল এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় ঘৃতাহুতি দিয়েছে।

বর্তমানে শুরু হয়েছে এই বিভিন্ন বিডিও অফিসে গিয়ে লাগাতার আক্রমণ। আর বিডিওরা থানায় এফআইআর করছেন কারও নাম না করে। মানে তৃণমূল এখন হয়তো এমন হতাশায় ভুগছে যে তারা চাইছে হয় এস্পার নয় ওস্পার। আমাদের সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়ছে।

হস্তচালিত ব্যবস্থা থেকে ডিজিটাইজেশন

আরও একটা বিষয় এখানে পরিষ্কার হওয়া দরকার। ২০০২ সালে এই প্রথা ছিল হস্তচালিত ব্যবস্থা। সেখান থেকে ডিজিটাইজেশন করতেই নির্বাচন কমিশনের সফটওয়ারের সমস্যা। সেখানে এতগুলো লোককে এইভাবে হয়রানি করার কি দরকার?

এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Issues)

এসআইআর শেষ হবে তো?

এর একটা ফল কিন্তু ঘটতে আরম্ভ করেছে। ১৪ই জানুয়ারী ফারাক্কার এক জায়গায় সমস্ত বুথ লেভেল অফিসার একসাথে পদত্যাগ করেন। এই ভাবে চললে পশ্চিমবঙ্গ আদৌ এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Issues ) থেকে বেরোতে পারবে তো? এই এসআইআর ঠিকমতো শেষ হবে তো?

রাজনৈতিক বিতর্ক থাকবেই। এখানে যে প্রশাসনের সাথে শাসকের এক অদ্ভুত ইকো সিস্টেম আছে। সেই জন্যই এত মাইক্রো অবজার্ভার। তাতেও কোন অসুবিধে নেই। কিন্তু তাদের সামনের সারির সৈন্যরা যদি এইরকম বিপদে পরে এবং তারা বেঁকে বসলে এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে তো?

Key Takeaways

  1. The SIR Issues has been reaching to the hilt.
  2. The Software of the Election Commission has started showing errors.
  3. Suddenly, EC rejects proposal to accept Madhyamik admit cards for SIR verification in Bengal
  4. The Booth Level Officers (BLOs) have started submitting mass resignations.
  5. Micro Observers are sending notes of their concerns to the CEO.
  6. Trinamool Congress has started attacking hooliganism in the BDO Offices.
  7. The million dollar question remains: Will the SIR be completed peacefully at all?

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 + eleven =

Trending in Knowledge Mart

West Bengal Politics (62) West Bengal Assembly Election 2026 (57) Special Intensive Revision (SIR) (35) Muslim Vote Bank for Mamata Banerjee (32) Trinamool Congress (TMC) (31) West Bengal (30) Social Impact (29) Mamata Banerjee vs Election Commission (ECI) (29) West Bengal State Government (27) Mamata Banerjee vs Central Agencies (20) Bharatiya Janata Party (BJP) (20) Women Vote Bank for Mamata Banerjee (16) Mamata Banerjee (16) Election Commission of India (ECI) (15) Identity Politics (14) Communal Politics (13) Central Deprivation (12) Law and Order Situation (11) Center-State Conflict (11) Indian Politics (10) Mamata Bandyopadhyay (10) Education System in West Bengal (10) Enforcement Directorate (ED) (9) United Opposition (9) Bihar assembly election 2025 (8) Buddhadeb Bhattacharya (8) Communist Party of India (Marxist) CPI (M) (8) 2011 Assembly Election (8) Authoritarian Leaders (8) Social Welfare Scheme (8) Violence on Women (7) Social Media (7) Duplicate Voters (6) Caste-based Reservation (6) Suvendu Adhikary (6) Bengali Muslims (6) Prashant Kishor (PK) (6) Abhishek Banerjee (6)

পশ্চিমবঙ্গে এই এসআইআর বিড়ম্বনা (SIR Issues) শুধু রাজনৈতিক ভাবেই নয়, এখন ওই বিএলওদেরও যথেষ্ট বিপদে ফেলছে। নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা প্রকট। মানুষ হেনস্থা হচ্ছেন।