সিঙ্গুরে শিল্প সম্ভাবনা: নীরব প্রধানমন্ত্রী
Jan 19, 2026 - By Ashutosh Roy Current AffairsPolitics
মূল দিকগুলি
- প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। তিনি জেলা-ভিত্তিক উন্নয়নের কথা বলেন। তবে সিঙ্গুরে শিল্প উন্নয়ন নিয়ে তিনি একটি কথাও বলেননি।
- এর ফলে সিঙ্গুরে আবার শিল্প ফিরবে—এই নিয়ে বিজেপি নেতারা যে হাইপ তৈরি করেছিলেন, তাতে বড়সড় ধাক্কা লাগে। অনেকের কাছে এটি সেই সম্ভাবনার কফিনে শেষ পেরেক বলেই মনে হয়েছে।
- ফলস্বরূপ, বিপুল জনসমাগম হলেও জনতা আশাহতই রয়ে যায়। সেই জমায়েত প্রকৃত অর্থে জনউচ্ছ্বাসে রূপ নেয়নি।
- এছাড়াও, একটি গুরুতর প্রশ্ন এখনো অনুত্তরিত রয়ে গেছে—টাটা গোষ্ঠী সরে যাওয়ার পর সিঙ্গুরে আদৌ কি ভারী শিল্প স্থাপন সম্ভব?
- সব মিলিয়ে, এই রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
সিঙ্গুরে শিল্প: মোদিকা গ্যারান্টী কোথায়?
বহুলচর্চিত প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সিঙ্গুরে হল ১৮ই জানুয়ারী ২০২৬। প্রচুর জনসমাগম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বক্তৃতা দিলেন অনেকক্ষন। কিছু প্রকল্পের ঘোষণাও করলেন। ঠিক ১৭ই মালদা জনসভার মতো। কিন্তু সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে একটি কথাও বললেন না। বিশাল জনপ্লাবন এক প্রবল জোনোচ্ছাসে পরিণত হল না। সিঙ্গুরবাসী হতাশ।

সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে আশা জাগানো কেন
সিঙ্গুরে ওই টাটাদের ছেড়ে যাওয়া জমিতে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশেষের আয়োজন করেছিল বিজেপি। রাজ্য বিজেপি নেতারা নাগাড়ে ওই জমিতে টাটাদের ফেরাবার কথা ঘোষণা করছিলেন । বোধ হয় তাদেরও উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে সিঙ্গুরে শিল্পের কথা ঘোষণা করানোর ।
প্রধানমন্ত্রী শুধু হালকা করে ছুঁয়ে গেলেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করবেন । রাজ্যে আইনি শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন । মোদিকা গ্যারান্টিও থাকল।
কিন্তু রাজ্য বিজেপি যে বক্তৃতার ব্রিফ পাঠিয়েছিলেন, তাতে সিঙ্গুরে শিল্প ছিল কি? ধরা যাক ভুল হয়েছিল। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী । তারা কেন একটা চিরকুট ধরালেন না? এটা বহুলচর্চিত চাকরির চিরকুট নয় । এটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য . এর আগেও কিন্তু আমরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তিতার সময় চিরকুট ধরাতে দেখেছি ।
হয়তো এখানেই সন্দেহ জাগে হয় প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বজ্ঞাতে সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে কিছু বলতে চান নি ।
আর যদি শমীক বা শুভেন্দু কোন চিরকুট না পাঠায় নিজেদের নাম প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে রাখবার জন্য তাহলে তারাই নিজেদের কবর খুড়লেন এই ভোটের আগে । বিজেপির সমস্যাটা ঠিক কি হল, জানি না, কিন্তু এটা তাদের কাছে একটা অমূল্য সুযোগ হারানোর শামিল।
সিঙ্গুরে শিল্প কি সম্ভব?
দুনিয়ায় অসম্ভব বলে কিছু হয় না, একথা অনেক দার্শনিক বলে গেছেন। প্রয়াত রাজ্যের মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী বলতেন, মরা মানুষ বাঁচানো ছাড়া, সবই করতে পারেন। কিন্তু সিঙ্গুরের বর্তমান জমির অবস্থাটা দেখা যাক
- সিঙ্গুরের জমি এখন না চাষের, না শিল্পের পক্ষে অনুকূল।
- চাষীদের ফেরত দেওয়া জমি চাষের উপযুক্ত করে তোলার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের সেখানে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন ছিল। তিনি তা করেন নি। বরং সিঙ্গুরে তার স্বার্থ মিটে যাওয়ায় তিনি আর সিঙ্গুরকে গুরুত্ব দেন নি। এটা তার প্রায় স্বভাবসিদ্ধ
- জমিকে কোন ভারী শিল্পের জন্য তৈরী করতে হলে, মাটির নিচের গভীর স্তর পর্যন্ত খনন করতে হবে। ওই নিচের কংক্রিটের গাঁথনি সরাতে হবে। স্যুয়েজ ব্যবস্থা পুরো পাল্টাতে হবে। এই বিপুল খরচ কোন শিল্পপতি কেন করবেন?
- সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ তৈরী হয়ে গিয়েছিল । সেই অবস্থায় টাটাদের চলে যেতে হয়। এবং তারা আজ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পান নি। আরবিট্রেশন হয়ে গেছে । বর্তমানে এই সুদসমেত এই ক্ষতিপূরণের পরিমান বোধ হয় ১৫০০ কোটি টাকা। রাজ্য এই ক্ষতিপূরণ না দিলে আইনি বাধা থাকবেই। কোন শিল্পপতি জেনেশুনে আস্তে চাইবেন?
- জমির বর্তমান মালিকানা নিয়েও আইনি জোট আছে । আর সিঙ্গুরে টাটা বিতরণের পর কেউ কি ঝুঁকি নিতে চাইবেন?
ইতিহাস সাক্ষ্য যে টাটাকে সিঙ্গুরে শিল্প না করতে দিয়ে প্রায় তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের সাদরে জায়গা করে দিয়েছিলেন তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এই নরেন্দ্র মোদী । ঘটনা চক্রে আজ সেই তিনিই দেশের প্রধানমন্ত্রী । ভাগ্য চক্রে তিনি আজ সিঙ্গুরের মাটিতেই দাঁড়িয়ে জনসভা করছেন।
সিঙ্গুরে শিল্প: কি হতে পারে?
ওখানে যেহেতু কোন ভারী শিল্প হওয়া বাস্তবে প্রায় অসম্ভব, তাই আমরা দেখে নিতে পারি ওখানে কি ধরণের শিল্প এই মুহূর্তে সম্ভব
- আগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস
- কোন হিমঘরের সমাহার
- সবজি বিক্রেতাদের জন্য সবজি মণ্ডপ
- হালকা ইলেকট্রনিক্স বা অন্য শিল্প
- কিছুটা জমির ওপর ছোট কোন কারখানা
বাস্তবটা অত্যন্ত্য রূঢ় । কিন্তু ঐধরণের ভারী শিল্প করে সেখানে প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান সম্ভব নয় । অত্যন্ত মর্মান্তিক সত্য। ওই জমিতে আর চাষবাস সম্ভব নয় । কারণ ওই চাষীরা সেই খরচ বহন করার ক্ষমতা রাখেন না।
একমাত্র রাজ্য এগিয়ে এসে যদি ওখানে বিপুল অর্থ নিয়োগ করেন, তবেই সেটা সম্ভব । রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার ওপর কেউ কি আর ভরসা রাখেন?
সিঙ্গুরের মানুষ অত্যন্ত্য আশাহত । তাদের দুরবস্থার সমব্যাথী সবাই । কিন্তু এই বাস্তবতা মেনে নেওয়াই সিঙ্গুরবাসী এবং রাজনীতির কারবারিদের মেনে নেওয়া ভাল।
২০২৬এ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচার
প্রধানমন্ত্রী এবার প্রত্যেক জনসভায় আগে উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছেন, তারপর রাজনীতি। ২০২৫এর আলিপুরদুয়ার সভা থেকে তিনি এই ফর্মুলায় নির্বাচনী প্রচার করছেন। আমরা যদি ২০২১ সালের তার নির্বাচনের প্রচার লক্ষ্য করি, সেখানে তিনি মমতা অভিষেককে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন । ব্যাস, ওখানেই থেমে গেছেন ।
এবার কিন্তু তার প্রতিটা নির্বাচনী জনসভায় ঢালাও উন্ননয়নের বার্তা। ইতিমধ্যেই মেট্রো রেলের বিশাল সম্প্রসারণের উদ্বোধন করেছেন, যেটা মানুষের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে যুক্ত । এখানেই বর্তমান নির্বাচনী সভার সাথে তার আগেরবারের বক্তৃতার গুণগত পার্থক্য।
এখানেই বর্তমান নির্বাচনী সভার সাথে তার বক্তৃতার গুণগত পার্থক্য।
কাল সিঙ্গুর থেকেও তিনি বলাগড়ের জলপথের কথা বলেছেন। আগের দিন মালদায় তিনি প্রচুর উন্নত ট্রেনের ঘোষণা করেছেন ।
২০২৬ নির্বাচনে সিঙ্গুরের প্রভাব
প্রধানমন্ত্রীকে সিঙ্গুরে নিয়ে এসে জনসভা করান হয়তো বিজেপির ক্ষেত্রে বুমেরাং হয়ে ফিরতে পারে। তাদের নেতারা এই সিঙ্গুরে শিল্প হবে, এই আশা দিয়ে আকাশ বাতাস মুখরিত করলেন কেন? আর যদি সেটা তারা স্বজ্ঞাতে করে থাকেন, তাহলে তাদের উচিত ছিল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ দিয়ে সেটা ঘোষণা করানোর ।
কালকের জনসভার বিশেষ জনপ্লাবন দেখে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের মুখে চিন্তার বলিরেখা স্পষ্ট হচ্ছিল । কিন্তু জনসভা শেষে তাদের দুশ্চিন্তা কমল। স্বাভাবিক কারণেই বিজেপি ২০২৬ নির্বাচনে নিজেদের দোষে খানিকটা ব্যাকফুটে চলে গেল।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নের সিঙ্গুরে শিল্প বোধ হয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সাথে সাথে শেষ হয়ে গেল। মোদিকা গ্যারান্টী আর পাওয়া গেল না। সিঙ্গুরবাসী হতাশ। ২০২৬ নির্বাচন সামনে।
Key Takeaways
- The Prime Minister addressed a massive public rally in Singur. He spoke about district-wise development. However, he did not say anything about industrial development in Singur.
- As a result, the hype created by BJP leaders about industries returning to Singur suffered a major setback. It felt like the final nail in the coffin of that narrative.
- Consequently, the huge crowd remained disappointed. The gathering did not turn into real public enthusiasm.
- Moreover, a serious question remains unanswered: after the Tata group left, is heavy industry in Singur even possible anymore?
- Ultimately, this political double standard is likely to hurt the BJP in West Bengal during the 2026 Assembly elections.
[…]সিঙ্গুরে শিল্প সম্ভাবনা: নীরব প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নের সিঙ্গুরে শিল্প বোধ হয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সাথে সাথে শেষ হয়ে গেল। মোদিকা গ্যারান্টী আর পাওয়া গেল না। সিঙ্গুরবাসী হতাশ। […]
[…]সিঙ্গুরে শিল্প সম্ভাবনা: নীরব প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নের সিঙ্গুরে শিল্প বোধ হয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সাথে সাথে শেষ হয়ে গেল। মোদিকা গ্যারান্টী আর পাওয়া গেল না। সিঙ্গুরবাসী হতাশ। […]