Site icon Knowledge Mart

সিঙ্গুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

সিঙ্গুরে আবার আসিল ফিরিয়া

সিঙ্গুরে আবার আসিল ফিরিয়া

সেই সিঙ্গুরে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শিল্পায়নের স্বপ্নের সিঙ্গুর। টাটার ন্যানো তৈরির কারখানা গড়ার শুরু সেই সিঙ্গুর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসছেন সেই সিঙ্গুরের জমির ওপরেই সভা করতে আগামী ১৮ই জানুয়ারী ২০২৬ ।

সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি Narendra Modi Singur Rally 2025

টাটার ন্যানো কারখানার জায়গায় সিঙ্গুরে আজ শেয়াল শূকর

কিন্তু না। সেখানে আজ কারখানা হয় নি। শেয়াল আর শূকর ঘুরে বেড়াচ্ছে। জমি একটু খুঁড়লেই নাকি সেখান থেকে পাথর বের হচ্ছে। চাষের অযোগ্য। বেশিরভাগ চাষীরই হাহাকার সেই সিঙ্গুরের মাটিতেই। যুবকদের ব্যর্থ মনোরথ। কয়েকজনের ট্রেনিংও হয়েছিল টাটার কারখানায়।

তারা অবশ্যই জমি ফেরত পেয়েছেন কোর্টের রায়ে। কিন্তু সেখানে আর চাষ করা যায় না। না হল শিল্প, না কৃষি। মাথা চাপড়াচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শিল্পায়নের স্বপ্ন

২০০৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে পুনর্জয়ী হয়েই টাটাদের আগমনের খবর রাষ্ট্র হয়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাংবাদিক সম্মেলনের সময়ই টাটাদের সম্মতিপত্র পৌঁছয়। সেকি উৎসাহ! অনেকদিন পর পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প হবে। সঙ্গে প্রচুর আনুষঙ্গিক শিল্প হবে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শিলায়নের স্বপ্ন পূর্ণ হবে। বাংলার শিক্ষিত বেকাররা আর ভিন রাজ্যে পারি দেবে না।

আসে পাশে সে কি প্রবল উৎসাহ। শিল্প মানেই প্রচুর লোকের যাতায়াত। অতএব তাদের বিক্রিবাটরা বৃদ্ধির সুযোগ। এমনকি ব্যাংকগুলোও তাদের শাখা বা কিয়স্ক খোলবার কথা ভাবছিল। শুধু তাই নয়। টাটারা যেহেতু যেখানে ব্যবসা করে সেখানকার উন্নয়নের ওপরেও নজর দেয়, তাই কথা ছিল একটা হাসপাতাল গড়ারও।

কৃষি জমি রক্ষা কমিটি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনমনীয় আন্দোলন

কিন্তু বাঙ্গালী শিল্পের থেকে স্থিতাবস্থাকেই বেশী গুরুত্ব দেয়। সিঙ্গুরেও তাই। একটা অংশের জমির মালিকরা বেঁকে বসলেন। তারা সরকারকে স্বেচ্ছায় জমি দিতে অস্বীকার করলেন। গড়ে উঠল কৃষি জমি রক্ষা কমিটি। আন্দোলন শুরু হল। কিছুদিনের মধ্যেই মমতা বন্দোপাধ্যায় সেই আন্দোলনের হ্রাস হাতে টেনে নিলেন।

অবরোধ, আন্দোলন, রাস্তা আটকানো – সবই চলতে থাকল। তার পরেই মমতা ওই আন্দোলনকে নিয়ে এলেন কলকাতার ধর্মতলায়। প্রচার অনেক বাড়লো। দীর্ঘ অনশনে বসলেন। সঙ্গে অনেক পার্টির সমর্থন। কংগ্রেসের প্রিয়রঞ্জন থেকে বিজেপির তথাগত রায় এবং রাজনাথ সিংহ।

তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী একবার বুদ্ধ মমতার মধ্যে বৈঠকও করালেন। কিন্তু কোন লাভ হল না। মমতা ওই অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরানোর দাবিতেই অনড় রইলেন। অভিযোগ ছিল তিনফসলা জমিতে কারখানা কেন?

কিন্তু বাস্তব এটাই যে মোটরগাড়ি কারখানা নিশ্চয় কেউ পুরুলিয়া বা বাঁকুড়ায় করতে চাইবে না। যেকোন শিল্পপতি চাইবেই শহর বা শহরতলীর জমি। শিল্প তো আর আকাশে হয় না।

বাংলার শিল্পায়নের কবর – সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানা

নিঃসন্দেহে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রকাশ পেল। সবচেয়ে বড় কথা, সিপিএমের একটা অংশেরও দ্বিধা ছিল। বুদ্ধবাবু বলপ্রয়োগে রাজি ছিলেন না। শেষে তাঁর স্বপ্নের পরিসমাপ্তি ঘটল। ৩রা অক্টোবর ২০০৮ রতন টাটা সিঙ্গুর থেকে ফিরে যাবার কথা জানিয়ে দিলেন।

সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো কারখানা The Nano Project of TATA industries at Singur

সেই সঙ্গেই ঘটলো বাংলায় বেকার যুবকদের স্বপ্নের। বাংলার পরিচয় ছড়িয়ে পড়ল প্রায় শিল্পবিদ্রোহীর তকমা। বাংলার শিল্পায়নের কবরে শেষ পেরেক ঠোকা হল। অনেকদিন পর হতভাগ্য পশ্চিমবঙ্গবাসীর মনে শিল্প নিয়ে যে আবেগ ঘনিয়ে উঠেছিল, তারও অপমৃত্যুর সাক্ষী রইলাম আমরা।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যের উত্থান

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একদিকের পতন মানেই অন্যদিকের উত্থান। এই প্রখর আন্দোলন থেকে সবচেয়ে লাভবান হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে দীর্ঘ বাম সাম্রাজ্যের অবসান। মমতার স্বপ্নপূরণ। পরিবর্তনের স্লোগানে অনেকেই যোগ দিলেন।

পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঙ্গালী পরিবর্তনের ফলে কতটা লাভবান হলেন, সেটা বহুলচর্চিত। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের শিল্পসম্ভাবনায় শেষ পেরেক পোঁতা হল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কৃষকদের জমি নিশ্চয় ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সেই জমি পেয়ে কৃষকদের লাভ কি হল ? যেটা একটা শিল্পনগরী হয়ে উঠতে পারতো, সেখানকার আজ কি অবস্থা।

মমতা তার আগেই হাওড়া থেকে সিঙ্গুর এক্সপ্রেস চালু করেছিলেন। সেই এক্সপ্রেস ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

অর্থাৎ সেই মানুষের আবেগ নিয়ে রাজনীতি। কয়েক বছর আগেও তিনি বলেছেন সিঙ্গুরে শিল্প হবে। কিন্তু কোথায় সেই সিঙ্গুরে শিল্প?

বিজেপির তৎকালীন সিঙ্গুরে মমতাকে সমর্থন আর আজ?

গতকাল শুনলাম তথাগত রায় তাদের সেই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য ভুল স্বীকার করেছেন। ভুল স্বীকার করা নিঃসন্দেহে খুব ভাল এবং উদারতার পরিচয় দেয়, কিন্তু সব ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হয় না। ঘড়িকে কখনও উল্টোদিকে ঘোরান যায়? অতএব সময়ের চাকায় আজ বাংলার সর্বনাশ প্রশ্নাতীত ভাবে লেখা হয়ে গেছে।

শোনা যায় গত কবছর ধরে যে বছর বছর বিসনেস সামিট হয়, তাতে পুঁজির পরিমান অত্যন্ত্য কম। আর বাঙ্গালী পারিযায়িক শ্রমিক ক্রমশ বাড়ছে। এক সিঙ্গুরের নিশ্চয় সব সমস্যার সমাধান হত না। কিন্তু অন্তত একটা ইতিবাচক বার্তা যেত শিল্পমহলে। হয়তো বা সিঙ্গুরই হত বাংলার হৃত গৌরবের পুনরুত্থানের শুরু।

সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আশা

বিজেপি কেন হটাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সিঙ্গুরের সেই শশানে সভা করার জন্য নিয়ে আসছে বা তাতে কি লাভ হবে, সেগুলো রাজনীতির সম্ভাবনা। সে ব্যাপারে রানৈতিকদলগুলি এবং বিশেষজ্ঞরা নিশ্চয় গুরুগম্ভীর আলোচনায় রাত ৮টার প্রাইম টাইমে তর্কের তুফান তুলবেন।

কিন্তু সিঙ্গুরের মানুষ এখন কি চান? তাদের জন্য কি একটা শিল্প করা সম্ভব? প্রধানমন্ত্রীকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন নিশ্চয় হতে হবে।

সিঙ্গুরে শিল্পের দাবিতে মানুষের মিছিল

আর রাজনীতি নয়। অনেক হয়েছে। এবার বাংলায় দরকার শিল্প। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা অনেক। নরেন্দ্র মোদী কিন্তু যথেষ্ট বলশালী প্রধানমন্ত্রী। তিনি চাইলে ২০২৬এর ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের হয়তো বা স্বপ্নপূরণ হতে পারে।

Key Takeaways

  1. West Bengal received accolades from Tata Group of Industries.
  2. Buddhadeb Bhattacharya, as the Chief Minister of the state could sign up the contract with Ratan Tata for the Nano Automobile hub.
  3. However, An array of protests, demonstrations, strikes had forced the Tata Group to leave Bengal
  4. But Mamata Banerjee had stormed into the power in 2011 election
  5. The farmers have received their lands back but they are not fertile anymore.
  6. The Prime Minister Narendra Modi is conducting a rally in Singur on January 18, 2026

সর্বশেষ আপডেট

১৮-০১-২০২৬

প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে সভা করলেন। অনেক কিছু বললেন। কিন্তু টাটা বা শিল্প ফিরিয়ে আনার কোন কথাই বললেন না। সঙ্গে শেষ হল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নের। হতাশ সিঙ্গুরবাসী।

 

Exit mobile version